বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০১৫

ভাবের ঘরে চুরি না থাকলে.......

সময়ের সাফকথা ....
ভাবের ঘরে চুরি না থাকলে.......

·        আমরা বেঁচে আছি। পতিত জাতির উন্নতি হচ্ছে - আরো হবে, বিষ যন্ত্রণা কমছে - আরো কমবে।
·        জাতীয় ধমনীর ভিতর নতুন বিদ্যুদাগ্নি সঞ্চারিত করতে দৃঢ়চিত্ত হয়ে মনেপ্রাণে জাতি অকপট হচ্ছে।
·        দু’টি যুগের কঠোর চেষ্টার ফলে একটি চরিত্র গঠিত হয়। যার পূর্ণতা আজো হয়নি তবে গঠিত হচ্ছে।
·        সত্য আত্মপ্রকাশ করছে। সত্য অবিনশ্বর - ধর্ম অবিনশ্বর - পবিত্রতা অবিনশ্বর। তাই জাতি একটা আদর্শিক খাঁটি  নেতৃত্ব চাচ্ছে।

সংলাপ ॥ বিভিন্ন মহলে শুনা যায়, সরকারপ্রধান মুসলমান হওয়ার কারণেই নাকি সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ যুক্ত হয়েছে এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল করার অধিকার দেয়া হয়েছে! রাষ্ট্র সব মানুষের। সরকারপ্রধানদের মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য কি রাষ্ট্রের চরিত্র পাল্টে যাবে? বীর বাঙালির আক্ষেপ এখানেই। বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মুনসুর আলী, কামরুজ্জামানের মতো ব্যক্তিত্ব যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন তখন কেউ স্বপ্নেও ভাবেননি ‘সংবিধানে’ ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ ও ‘বিসমিল্লাহ’ যুক্ত হবে! এরপর যখন বলা হয় মহাজোট সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে; তখন তাকে বাঙালি জাতি আর কি বলবে? বর্তমান সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা তাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা থেকে বাঙালির রক্তে রঞ্জিত ‘সংবিধানে’ ধর্মের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামীলীগ দেশ, জাতি ও জনগণের আকাঙক্ষাকে সর্বোচ্চ বলে বিবেচনা করত। ’৭২ সালটা এরকমই ছিল, যে জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার ওপরে কোন ব্যক্তির ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয়া ছিল অসম্ভব। শেখ হাসিনাকে শতকরা ৭৫ ভাগেরও বেশি মানুষসমর্থন দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের ‘চেতনা’ ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন' তিনি কোন ‘ইচ্ছাকে’ প্রাধান্য দিলেন!
জানা গেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’কে ‘ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল’ হিসাবে বিবেচনা করে। দুনিয়াজুড়ে ইসলামপন্থী রাজনীতি বিষয়ে আমেরিকার কোনো একক অবস্থান না থাকলেও একানব্বইয়ের নির্বাচনের পর থেকে দেশের তথাকথিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াত প্রশ্নে আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান ছিল ‘অনুমোদন’মূলক।
বিশেষ করে আমেরিকার ‘রিপাবলিকান’ দলীয় বিগত প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা বাংলাদেশের ওই দলটিকে (মডারেট) ‘মধ্যপন্থি'’ বলে প্রায়শই উল্লেখ করতেন যা বাংলাদেশে অনেক রাজনীতিক এখনও বলতে পুলক অনুভব করেন! ১৯৯৩ সাল থেকেই বাংলাদেশ সফররত সব আমেরিকার কর্মকর্তাই জনগণ প্রত্যাখাত ওই দলটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাত করতেন।
জামাতের নাম ও দলীয় লক্ষ্য পরিবর্তনেরও পরও আগের অবস্থান থেকে আমেরিকার সরে আসা বাংলাদেশে তথাকথিত ইসলামপন্থি রাজনীতির প্রশ্নে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির উল্লেখযোগ্য পরবর্তন হচ্ছে বলে চিন্তাবিদরা ধারণা করছেন।
কিন্তু বর্তমান সরকার কি করছেন তা উপলব্ধি করে চিন্তাবিদগণ মুখে কলুপ আঁটছেন। বুদ্ধিবৃত্তিক দূর্নীতিবাজ বুদ্ধিজীবীরা সুযোগ নিয়ে মাঠে লাফালাফি করা শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সুযোগ বুঝে সংবিধানের বর্তমান সরকারের আনা পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকে প্রণীত নতুন নির্বাচনী আইনের সঙ্গে মিল রেখেসম্প্রতি তথাকথিত ইসলামী ওই দলটি নিজেদের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ রাখে। একইসঙ্গে দলীয় গঠনতন্ত্র থেকে ‘আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠা’র অংশটি নাকি বাদ দিয়েছে।

তাই দেশবাসীর চিন্তা জগতে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে - ধর্ম কি? 

রাজনীতির উদ্দেশ্য ক্ষমতা না মমতাবোধ?

রাজনীতির উদ্দেশ্য ক্ষমতা না মমতাবোধ?

সংলাপ ॥ আমাদের দেশে রাজনীতিকরা ভোটের আগে জনগণের কাছে আবেদন জানান যেন তাকে ভোট দিয়ে দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ দেয়া হয়। যে রাজনীতিক ভোটে প্রার্থী হয়েছেন তার আসল উদ্দেশ্যটা কি? সেটা কি দেশ ও দশের সেবা না-কি ক্ষমতা? দেশ ও দশের সেবা করার জন্য কি ক্ষমতা অপরিহার্য? ক্ষমতায় না গেলে কি মানুষের সেবা করা যায় না? ক্ষমতা কি মানুষকে সেবাপরায়ণ করে? ক্ষমতার সাথে সেবার সম্পর্ক কি? ‘ক্ষম তাড়িত যাহাতে’ সে ক্ষমতাবান। যার ক্ষমতা আছে সে ইচ্ছে করলে ক্ষমা করতে পারে আবার ইচ্ছে করলে শাস্তিও দিতে পারে। ক্ষমা করার যোগ্যতা যার নেই সে অক্ষম। অন্যদিকে, আমি থেকে ‘সে’- কে যে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তিনি সেবক। সুতরাং সেবার সাথে ক্ষমতার কোন সম্পর্ক নাই। ‘সে’ অস্তিত্ব দিশাগ্রস্ত থাকে যাহাতে। যারা জনসেবার নাম করে জনগণের ভোট চায় আসলে তাদের উদ্দেশ্য জনসেবা নয়। তাদের উদ্দেশ্য ক্ষমতা। তুমি আমাকে ভোট দিয়ে এমন ক্ষমতা দাও যেন আমি তোমাকে শাস্তি দিতে পারি। এটাই মূল কথা। তোমার ভোটটা আমার প্রয়োজন দেশ ও দশের সেবা করার জন্য নয়, সেটা উপলক্ষ মাত্র; আসল লক্ষ্য হচ্ছে নিজের বিত্ত ও ক্ষমতা-প্রতিপত্তি বাড়ানো।
সেবার জন্য ক্ষমতা নয় মমতার প্রয়োজন। মমতা কি? মম মানে আমার, মমতা হচ্ছে মম তারণের আধার। মমতা হচ্ছে একটা বোধ।
এ বোধের প্রথম পর্যায় হচ্ছে অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্ট হিসেবে উপলব্ধি। এ উপলব্ধি থেকে যখন কষ্টবোধটি আমিত্ববোধের অন্তর্গত হয় তখন তাকে মমতা বলে। মমতার মধ্যে ‘আমার আমার’ বোধ থাকে না। থাকে ‘আমি আমি’ বোধ। কোন ব্যক্তি, জীব বা বস্তুর প্রতি আমার বোধ যখন প্রত্যাশাহীনভাবে প্রকাশিত হয় তখন তাকে বলে মমতা। ক্ষমতা এবং মমতার অবস্থান দুই বিপরীত মেরুতে। যার মধ্যে মমতাবোধ জাগ্রত হয়েছে সে ক্ষমতার দিকে যাবে না আর যার মধ্যে ক্ষমতার লোভ ক্রিয়ারত আছে তার মধ্যে মমতাবোধ থাকবে না।
রাজনীতিকদের মমতা থাকলে চলে না। তাদেরকে শৃগালের মতো ধূর্ত এবং সিংহের মতো হিংস্র হতে হয়। সুতরাং, ‘দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ দিন’, ‘আমাকে ভোট দিয়ে জনসেবার সুযোগ দিন’ - বলে ভোটারদের হাত-পা ধরা, পা ছুঁয়ে দোয়া নেয়া, বিনয়ে অবনত হওয়া ইত্যাদি ভোট আদায়ের কৌশল মাত্র। দেশপ্রেম, মানবপ্রেম ইত্যাদি অধিকাংশ রাজনীতিকদের বাহিরের আবরণ মাত্র আসলে এরা ভেতরে ভেতরে লালন করেন ঘৃণা, অসহিষ্ণুতা, অধৈর্য, লোভ। রাজনীতি এখন হয়ে উঠেছে ক্ষমতা ও বিত্তের আধার। রাজনীতির আশ্রয়ে ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিত্ত ও প্রতিপত্তির সম্প্রসারণ সহজ হচ্ছে তাই সুযোগ সন্ধানীরা নামছে রাজনীতির মাঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ধনী ব্যবসায়ী, প্রাক্তন সেনাপতি, আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, উপাচার্য, ব্যাংকার সবাই এখন রাজনীতির মাঠে খেলোয়াড়।

রাজনীতি এখন নীতি ও মূল্যবোধের সংকটে। ফলে দেশ ও দশের মধ্যে বাড়ছে অসহিষ্ণুতা এবং অশ্রদ্ধার চর্চা। দেশ পতিত হচ্ছে গভীর  থেকে গভীরতর সংকটে। রাজনীতিতে চলছে নীতি লালন-পালনের আকাল। এর থেকে উত্তরণের  পথ ক্ষমতা নয় মমতাবোধের জাগরণ।

স্বাস্থ্য আর মাদক নিয়ে সরকারের দৃঢ়তা জরুরি

জাতির স্বার্থে -
স্বাস্থ্য আর মাদক নিয়ে
সরকারের দৃঢ়তা জরুরি

সংলাপ ॥ স্বাস্থ্য আর মাদক দুটি বিপরীতমুখী শব্দ। স্বাস্থ্যের সর্বজনীন সংজ্ঞায় শারীরিক, মানসিক আর আত্মিক সুস্থতার কথা বলা হয়েছে। যে কোন মাদক গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যের এই তিনটি প্রস্তাবনা দারুণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিবছর ২৬ জুনকে বিশ্বজুড়ে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস বলে পালিত হয়। বাংলাদেশেও এ দিবস পালনে কয়েকবছর আগে ভাবনা ছিল ‘স্বাস্থ্যের কথা ভাবুন-মাদক নয়’। কিন্তু এমন কিছু মাদকদ্রব্য (মরফিন, পেথিড্রিন) আছে যার পরিমিত ব্যবহার শুধুবৈধ নয় রোগ তাড়াতেও অপরিহার্য। আবার এগুলোর অপব্যবহার মানুষকে নিয়ে যায় অন্ধকারের পথে। এ ছাড়া অনেক মাদক রয়েছে যার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়বৈধতাই নেই। সেগুলো আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করে দেয়। মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যে কোনো ধরনের মাদক বারবার নিলে তা আমাদের মস্তিষ্কের ‘পুরস্কারকেন্দ্র’ বা রিওয়ার্ড সেন্টারকে উদ্দীপ্ত করে। এর ফলে একটা সাময়িক ভালো লাগার অনুভূতিতৈরি হয়। এই ভালো লাগা থেকেইতৈরি হয় শারীরিক এবং মানসিক নির্ভরশীলতা। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের (রাসায়নিক পদার্থ) তারতম্যের কারণে শরীর চায় বারবার ওই মাদক নিতে। অন্যদিকে অবচেতন মন চায় ওই মাদক নিয়ে আরো ভালো করে থাকতে। এ কারণে একজন ব্যক্তি মাদকাসক্ত হয়ে গেলে তিনি বারবার মাদক নিতে চান। এই ভালো লাগার অনুভূতি ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মাদক স্বরূপ প্রকাশ পায়। পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত দেহযন্ত্রের সব অংশ বিকল হতে থাকে। পাশাপাশি শুরু হয় নানান মানসিক সমস্যা। চিন্তা আর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ মাদকাসক্তিকে মস্তিষ্কের রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্ল্যাসিফিকেশন অফ ডিজিজের দশম সংস্করণ যা আইসিডি-১০ নামে বেশি পরিচিত তাতে মাদক ব্যবহারজনিত রোগগুলোকে কোড নম্বরে এফ ১০ থেকে এফ ১৯ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী পুনরাসক্তির হার অনেক বেশি হলেও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন মাদকাসক্তি একটি নিরাময়যোগ্য রোগ।
মাদকাসক্তি নিয়ে ভারত তো বটেই, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে নানা ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। এসব ভ্রান্তধারণা বেশির ভাগটাই না জানার জন্য। বাকিটা মাদক ব্যবসায়ীদের প্রচার। বলা হয় যে, মাদকাসক্তি কখনো ভাল হয় না এবং এর কোনো চিকিৎসা নেই। কিন' এই রোগের উপযুক্ত চিকিৎসা আছে।
‌অন্যদিকে এমনটাও বলা হয় - মাদকাসক্ত’র চিকিৎসায় কোন ওষুধের প্রয়োজন হয় না। এটা ঠিক নয়। ডি-টক্সিফিকেশনের সময়, উইথড্রয়াল সিম্পটম দূর করতে এবং মাদকের ওপর নির্ভরতা কমাতে সারা বিশ্বে প্রচুর ব্যবহৃত হয় নানা ধরনের ওষুধ। পাশাপাশি কাউন্সিলিং এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া সবকিছুই মাদকাসক্তির চিকিৎসা করতে কাজে আসে।
আরেকটি বড় ভুল ধারণা হচ্ছে, সিগারেট কোনো মাদক নয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সিগারেট (নিকোটিন) এক ধরনের মাদক। গবেষণাতেও এটা প্রমাণিত। দেখা গেছে, মাদকাসক্তি শুরুর প্রথম ধাপ শুরু হয় সিগারেট দিয়ে।
মাদক ব্যবসায়ীরাও অনেক মিথ্যা প্রচার করে থাকেন। যেমন মাদক সেবনে সৃষ্টিশীল কাজ যেমন গান গাওয়া, কবিতা লেখা, অভিনয়ের দক্ষতা বাড়ে। অথচ বাস্তবক্ষেত্রে তা হয় উল্টোটা। মাদক গ্রহণের পরপরই সাময়িকভাবে ভালো লাগার অনুভূতি হয় বটে কিন্তু পরবর্তী সময়ে বুদ্ধিবৃত্তি কমে যায়, কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়। অনেকেই মনে করেন মাদকাসক্ত ব্যক্তি একজন অপরাধী। তার শাস্তি হওয়া উচিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে অপরাধী নয়, বরং সে অপরাধের শিকার। শাস্তির বদলে তার চিকিৎসাই প্রথম পাওয়া উচিত।
আমাদের দেশে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে একটা ভুল ধারণা আছে যে বিদেশে পাঠিয়ে দিলে বা বিয়ে দিলে মাদকাসক্ত দূর হয়ে যাবে। কিন্তু এসব করে বাস্তবে মাদকাসক্তি দূর তো হয়ই না, বরং আরো বাড়ে।
মাদকাসক্তি চিকিৎসার রয়েছে কয়েকটি ধাপ - প্রথম পর্যায়ে কোন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদকাসক্তির ধরন নির্ণয় করে শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা করা হয়। এরপর তার মধ্যে মোটিভেশনতৈরি করার চেষ্টা করা হয়। ‘উইথড্রয়াল’ সিনড্রম ও মাদকজনিত শারীরিক সমস্যার চিকিৎসা করা হয়। এরপর তার শরীর থেকে মাদকের ক্ষতিকর রাসায়নিক অংশগুলো বের করে দেয়া হয়। এই ধাপটিকে বলা হয় ‘ডিটক্সিফিকেশন’। এ সময় রোগীর পুষ্টি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হয়। মাদকমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন স্বীকৃত ওষুধ নির্দিষ্ট নিয়মে মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শে সেবন করতে হয়।

পরবর্তী ধাপে তাকে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মাদকমুক্ত থাকার প্রেরণা দেয়া হয়। আবার পরবর্তী সময়ে সে যাতে মাদক গ্রহণ না করে সেই বিষয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দেয়া হয়। আবার আসক্ত হওয়ার জন্য যেসব ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ রয়েছে, সেগুলো থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। পরে তাকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা হয়। পুনর্বাসনমূলক কাজ দেয়া হয়। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। প্রয়োজনে তাকে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা হয়। ধাপগুলো যত সহজে বলা হলো, বাস্তবে এতটা সহজ নয়। প্রতিটি ধাপে থাকে নানা জটিলতা। আবার পুনরাসক্তির ঝুঁকি তো রয়েছেই। কিন্তু স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন করতে গেলে অবশ্যই মাদকমুক্ত তরুণসমাজ প্রয়োজন। তাই নিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। 

বাংলাদেশ ‘জনগণতন্ত্রী’ না ‘জনপ্রজাতন্ত্রী’

বাংলাদেশ ‘জনগণতন্ত্রী’না ‘জনপ্রজাতন্ত্রী’

আল্লামা মোহাম্মদ সাদেক নূরী ॥ অধুনা কয়েকটি সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠে বার বার শোনা যায়, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মালিক জনগণ’। ‘বাংলাদেশের মালিক জনগণ’ এটা শতসিদ্ধ; তারপরও দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে তা বার বার উচ্চারণ অবশ্যই আলাদা তাৎপর্যবহ। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক সাধুবাদ।
প্রশ্ন হলো, যে বাংলাদেশের মালিক জনগণ, সে বাংলাদেশ ‘জনগণতন্ত্রী’ না হয়ে ‘প্রজাতন্ত্রী’ হলো কেন? এক সময়ে দেশটা বৃটিশ রাজের অধীনই ছিল এবং জনগণও প্রজা-ই ছিলেন বটে; কিন' এখন তো আর তা নেই; এখন দেশটি স্বাধীন জনগণও কারো প্রজা নন। অতএব, এ স্বাধীন দেশটির বিশেষণ হিসাবে ‘প্রজাতন্ত্রী’ শব্দটি বেমানানই শুধু নয়, অস্বস্তিকরও বটে।
বাংলাদেশের সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ বিশেষণটি সংযোজনের যৌক্তিকতা ও সচেতনতা নিয়ে যতই প্রশ্ন থাক, শব্দটি প্রথম থেকেই সংবিধানে রয়েছে; অতএব প্রধানমন্ত্রী তো তা-ই আওড়াবেন, তবে শব্দটি সাধারণ্যে প্রায় অনুচ্চারিত বলেই বিষয়টি উপেক্ষিত রয়ে গেছে। অধুনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘন ঘন উচ্চারিত হওয়ার কারণে বিষয়টি চাউর হয়; কেবলই নিজের মধ্যে প্রশ্নের পর প্রশ্ন চারা দিয়ে ওঠে, তা হলে আমরা এখনও কারো প্রজা? রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ ‘কমনওয়েলথ এর সদস্য মানে কি আমরা জনগণ এখনও বৃটিশ রাজের প্রজা? আমি এবং আমরা জনগণ তা মানে কি? বাংলার মানুষ নিজেদেরকে কারো প্রজা মনে করলে ক্ষোভ এবং লজ্জা বোধ  করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীবর্গ এবং সংসদ সদস্যগণেরও তা-ই হয় বলে চিন্তাবিদদের দৃঢ় ধারণা।

অতএব, সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট জনগণের মানবিক দাবী, অনতিবিলম্বে সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ শব্দের স'লে ‘জনগণতন্ত্রী’ প্রতিস্থাপন করে জাতিকে ক্ষোভ ও লজ্জা থেকে বাঁচান।

দুঃখিত বলার অভ্যাস শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক

দুঃখিত বলার অভ্যাস শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক

সংলাপ ॥ ‘মানুষেরই ভুল হয়’-বাংলা ভাষার এই সহজ, সরল কথাটি সহজভাবে মেনে নিতে জানলে সমাজ জীবনের অনেক সমস্যার সমাধানই সহজে হয়ে যেতো। কিন্তু আমাদের সমাজে এ সহজ সরল কথাটির চর্চা হয় না বললেই চলে। অথচ সমাজ জীবনের যাবতীয় অশান্তির জন্য এটি একটি বড় কারণ তা বলাই বাহুল্য। এ প্রসঙ্গে সূফী সাধক আনোয়ারুল হক-এঁর একটি উপদেশমূলক বাণী হচ্ছে-‘ভুল করলে এমনকি অন্যায় করলেও দুঃখিত বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন’।
বস্তুত একজন নাগরিকের প্রতি সরকারের বা কোন রাজনীতিকের দুঃখপ্রকাশের ঘটনা এদেশে বিরল। কারণ, সমাজের উঁচু স্তরে প্রতিদিন কতই না ভুল হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে, কিন্তু এর জন্য দুঃখপ্রকাশের ঘটনা খুব একটা দেখা যায়না। সমাজের উঁচু স্তরের মানুষদের মধ্যে ভুল ও অন্যায় হয় বলেই দেশের এত বৈষম্য, শোষণ-বঞ্চনা, দুর্নীতি, মিথ্যাচার, অনাচার, অবিচার, হিংসা-বিদ্বেষ ও সংঘাতময় অবস্থা বিরাজ করছে। নিচু স্তরের মানুষদের মধ্যে ভুল ও অন্যায় হয়ে থাকলেও সমাজে তেমন প্রভাব পড়ে না বলে তাদের দায়-দায়িত্বও স্বভাবতই কম। 

সমাজের প্রতিটি স্তরে সচরাচরই দেখা যায়, যে মানুষটি ভুল করছে, অন্যায় করছে সে তার সেই ভুল ও অন্যায়কে স্বীকার না করে তা ঢেকে রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলে সেখানে সমস্যা আরও বাড়ছে। অথচ সে তার ভুল ও অন্যায় স্বীকার করে নিলে এবং এজন্য দুঃখ ও ক্ষমা চাইলে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যেতো। এমনকি যে ভুল ও অন্যায় করেছে সে নিজেকে শুধরিয়ে নিয়ে আরও উত্তোরণ ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারতো। সুতরাং সকল প্রকার ভুল ও অন্যায়ের জন্য দুঃখ প্রকাশের অভ্যাস গড়ে সমাজ জীবনের সর্বস্তরে সকলের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব গড়ে উঠবে - এই প্রত্যাশাই আজ বিবেকবান মহলের। 

লাঠি-কাঠি

তারিফ হোসেনের সত্য....
লাঠি-কাঠি

লাঠি শব্দটি উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে নানা অনুষঙ্গ-প্রসঙ্গ এসে যায়। স্থান-কাল-পাত্রভেদে এর উপস্থিতি, অবস্থিতি ও পরিস্থিতির বিষয়টি একাধারে যেমন নৈমিত্তিক তেমনি অনৈমিত্তিকও বটে। কোথায় নেই লাঠি? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির পাশাপাশি লাঠালাঠি হলেও প্রশ্নটি কিন্তু খাঁটি। পুরান থেকে কুরআন, শ্মশান থেকে ময়দান অব্দি লাঠির অবদান। লাঠির ব্যবহারের বিষয়টি যদি চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় তবে আপনার চক্ষু হতে পারে চড়কগাছ, ছানাবড়া, স্থির বা অস্থির। লাঠি আপনি ব্যবহার করতে পারেন আবার আপনার ওপরও ব্যবহৃত হতে পারে। আক্রমণে-প্রতিরক্ষায়, প্রহারে-সংহারে, বাঁচতে-বাঁচাতে, হাঁটতে-হটাতে, রাখতে-রুখতে, আহারে-বিহারে, গালি ঠেকাতে, খুলি ফাটাতে, পেটাতে-পটাতে এইভাবে নানা কর্মকাণ্ডে আমরা লাঠির ব্যবহার দেখে আসছি। লাঠির ব্যবহার যেমন বিচিত্র এর ব্যবহারকারীদের মধ্যেও তেমন বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। মজুর-মেজোর, মহাজন-দুর্জন, মন্ত্রী-সান্ত্রী, পতি-নৃপতি, বুড়া-খোঁড়া, দৃষ্টিহীন-শক্তিহীন ইত্যাদি শ্রেণীর কাছে হাতির চেয়েও বিশ্বস- হাতিয়ার হাতের লাঠি। লাঠি তার নিজস্ব ধারে-ভারে-ব্যবহারে পৌঁছে গেছে আমজনতার ঘরে ঘরে। এর প্রতীকি ব্যঞ্জনা আনতে তাই অবস্থা-ব্যবস্থা-সংস্থাভেদে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশব্দ ব্যবহার করি। ছন্নছাড়াকে ঠিক করতে তার মাথার ওপর ঘোরানো হয় ছড়ি। নবজাতকের যষ্টি তার মাতা; আর সেটা যে লাঠি ছাড়া ছুটতে পারে না তা তো বাংলাভাষী মাত্রই জানেন। ‘তেরে মেরে ডাণ্ডা করে দেব ঠাণ্ডা’- সুকুমার রায়ের এই ডাণ্ডা ছড়া সাহিত্যে অনন-কাল ঝাণ্ডা তুলে যাবে। দণ্ডধারী পেয়াদার আধুনিক সংস্করণ অস্ত্রধারী সৈনিক। শব্দতত্ত্বের ভাঙচুরের খেলায় লাঠি সামান্য দুমড়ে-মুচড়ে প্রথমে লড়ি তারপর নড়ি। ইংরেজ নিয়ে এল বেটন, ব্রিটিশ উপনিবেশ দীর্ঘস্থায়ী করতে ভারতবাসীকে দিল পেটন। ব্যাটেলিয়ান, বেটন নিয়ে ইংরেজ চলে গেলেও দুশো বছরের রাজত্বকালে তারা পেটানোর সংস্কৃতি পাকাপোক্ত করে যায়। পাকিস্তানি আমলের মতো স্বাধীন বাংলাদেশেও পুলিশের হাতের লাঠি সাধারণ নাগরিকের পরিচর্যার চেয়ে তাদের চার্জ করার কাজে বেশি ব্যস্ত থাকে। তাই বলতে পারি পেটুক ধন্য আহারে, পুলিশ ধন্য প্রহারে। প্রচলিত-অপ্রচলিত বিভিন্ন ধারায় লাঠির ব্যবহারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচনের ক্ষেত্র। লোড যদি হয় ফ্লেঙি তবে তা বলবৎ রাখতে বাবাজিরা বাজি ধরতেও রাজি। এ জন্যই মোবাইল কোম্পানির ফ্লেঙিলোড অপশনটি হালে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। শর্ত যত আঁটা গ্রাহক তত ঠ্যাটা অন্যদিকে শর্ত যত নমনীয় গ্রাহক তত কমনীয়। দাতা-গ্রহীতার চিরকালীন চাওয়া-পাওয়ার গড়মিল থেকেই তৈরি হয়েছে এই অন্যমিল প্রবচনটি-‘আঁটাআঁটি হলেই লাঠালাঠি’। ‘দশের লাঠি একের বোঝা’-কথাটি শুনতে বুঝতে কান-মন খুবই অভ্যস্ত। কিন্তু যদি বলা হয় ‘একের লাঠি দশের বোঝা’-তবে তা বোঝা কি সোজা? কথাটি বুঝতে একটু বিশেষ আখ্যা অর্থাৎ ব্যাখ্যার প্রয়োজন। দুনিয়ার শীর্ষধনীদের অন্যতম বিলগেটস একলক্ষ ডলার  খাওয়ার বিল দিলে তার তবিলে কোনো টান পড়েনা, কিন্তু সমপরিমাণ অর্থ যোগান দিতে গেলে আমাদের দেশের সত্তরজন মাঝারি চাকুরিজীবীর গোটা বছরের আয় এক জাগায় করতে হবে। তাহলে বিলগেটসের কাছে যা লাঠি তিনকুড়ি দশজনের কাছে তা কী বোঝা হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়। ওজর-আপত্তি তুলতে দক্ষ বলিয়েদের লক্ষও থাকে লাঠির ওপর। বাকযুদ্ধে প্রতিপক্ষকে নির্বাক করে দিয়ে বাগ্মীরা যেমন নিষ্প্রাণে প্রাণসঞ্চার করতে পারদর্শী তেমনি সজীবকে নির্জীব করাটাও ওদের কাছে শুধুই নস্যি।
অবস্থা বিশেষে কখন করতে হবে যোজন আর কখনই বা বিয়োজন সে ব্যাপারে তারা নিঃসন্দেহে অভিজ্ঞজন। এজন্যই তৈরি হয়েছে এই বিশেষ প্রবচন- ‘কাকা আর আমি একা, চোর আর লাঠি দুজন।’
এবারে ধাঁধার আসরে ঘাপটিমেরে-থাকা লাট্‌ঠি নিয়ে কথা বলব দুচারটি। আধা পরিমাণ ধাঁধাবলা দাদারাও যে ধাঁধাটি বলে অন্যকে গাধা বানাতে গিয়ে নিজেরাই গর্দভ সেজে পায়না পালানোর পথ সেটি হল- ‘আল্লাহর কী কুদরত লাঠির ভেতর শরবত।’ একই হেঁয়ালি আমরা অন্যভাবে বলি এবং উত্তরটা ভালই জানি- ‘আল্লাহর কী মেহেরবানী লাঠির ভিতর মিঠাপানি।’ উক্ত লাঠি আমাদের চোখে আখের ছবি এঁকে দিতে সময় নেয়না যেহেতু এই ধাঁধা আপাদমস্তক সাদাসিধা। ‘খুললে ঘর বন্ধ করলে লাঠি-’ এই ধাঁধাটি ধন্দ সৃষ্টি করার জন্য মন্দ নয়। উত্তর খুঁজতে গিয়ে মাতাল হতে হতে দেখবেন এক সময় ধান্ধার লাঠিটি আপনার মাথায় প্রায় মাথাল হয়ে বসে মুখরক্ষার পাশাপাশি আপনার ঊর্ধ্বাঙ্গও রোদবৃষ্টি থেকে রক্ষা করছে। যত্রতত্র ছত্রের পর ছত্র লিখে যে ছাতাকেই বোঝাচ্ছি তা এতক্ষণে ছাত্র-অছাত্র নির্বিশেষে সবারই বোধগম্য হয়েছে আশা করি।
আপাতত লাঠিকে লাটে তুলে কাঠির খুঁটিনাটি দেখে নিই। কাষ্ঠিকা মেদ হারিয়ে কাঠি আবার লাঠি রোগা হয়ে কাঠি হতে পারে।

লাঠির প্রকার-আকার যদি হয় কতক তবে কাঠির ক্ষেত্রে তা শতক। কৃষিসভ্যতার সূচনায় যখন কোনও কৃষিযন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয়নি তখন মজলুম মানুষেরা জুম চাষ করে কিছু খাদ্যশস্য ফলাত আর একাজে কাঠিই ছিল তাদের সবেধন নীলমনি। কাঠির উন্নত সংস্করণ লাঙল, হাল, ট্রাক্টর হলেও ব্যবহার উপযোগিতায় কাঠি আজ অব্দি একটা ফ্যাক্টর। নিবারণ- নিয়ন্ত্রণে কলকাঠি, চাবিকাঠি। বয়নে ক্রুশকাঠি, ভোজনে জোড়াকাঠি (চপষ্টিক), খননে সিঁদকাঠি। অচেতন করতে মরণকাঠি, সচেতন করতে জীবনকাঠি, জাগাতে সোনারকাঠি, ঘুমপাড়াতে  রূপারকাঠি, ভেলকি লাগাতে জাদুকাঠি, পরিমাপে গজকাঠি, জ্বালানি হিসাবে পাঠকাঠি, খুলনা অঞ্চলে যা ফোলাকাঠি সাজতে গুঁজিকাঠি, সৌরভ বিলাতে ধূপকাঠি। এছাড়া আছে দেশলাই বা ম্যাচের কাঠি যা ফসকাঠি নামেও পরিচতি। ব্যক্তি যখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে তখন সে আড়কাঠি। আর তিনি যদি একানন্তই হাড়জিরজিরে হয় তবে সে খ্যাংড়াকাঠি। উচু শক্তজমিতে ধানের চারা রোপণের জন্য গর্ত করার কাজে ব্যবহৃত হয় ভূঁইকাঠি। আরও এক ধরনের কাঠি আছে যা হুঁকোর মধ্যম অংশের নল উত্তমরূপে সাফাই করার কাজটির শুলুক সন্ধান করে বলে এটির নাম শুলুক কাঠি। প্রসঙ্গটা এখন হুঁকো থেকে ঢেঁকিমুখো করছি। এ থেকে আঁচ করা যায় কাঠি কীভাবে ঢেকির  ভেতরে ঢুকে আছে। যে শলাকা দারুণ মমতা দিয়ে ঢেকির সমতা রক্ষা করে তার নাম অক্ষশলা। স্থাননামেও কাঠির অবস্থান বেশ পরিপাটি-স্বরূপকাঠি, ঝালকাঠি, চূড়ামনকাঠি তার জ্বলন্ত  উদাহরণ। 

উচ্চ শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভালো মানুষ ও দেশপ্রেমিক


উচ্চ শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভালো মানুষ ও দেশপ্রেমিক

সংলাপ ॥ উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষিত হওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ভালো মানুষ ও দেশপ্রেমিক হওয়া। আর এই শ্রেণীর শিক্ষিতদের দিয়েই দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন হবে। সোনার বাংলায় পরিণত হবে দেশ। তাই তরুণদের মেধার বিকাশ ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ একান্ত প্রয়োজন। সরকার দারিদ্র্য নিরসনে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করতে বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ইত্যাদি খাতে অর্থ বরাদ্দ এবং আওতা বৃদ্ধি করেছে। এ অর্থ যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে ভাতাভোগীদের কাছে পৌঁছায় সেজন্যে তাদের প্রত্যেককে মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়ারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
দেশে নতুন ধারার ব্যাংকিং শুরু হয়েছে। হতদরিদ্রদের মাঝে ঋণ প্রদান করতে পারলে অভাবনীয় সাফল্য আসবে। বর্তমান সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন এবং কর্মসৃজনে সহায়ক কর্মসূচিগুলোতে সহায়তার পাশাপাশি একটি মানবিক ব্যাংকব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।  এ লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অবহেলিত উৎপাদনমুখী খাত - বিশেষ করে কৃষক, খুদে উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা ও শ্রমিক শ্রেণীসহ আর্থিক সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো সার্বিকভাবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশে উচ্চ প্রত্যক্ষ ব্যয় ছাড়াও অবহেলিত, সুযোগবঞ্চিত ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং অর্থনৈতিক খাতসমূহের সামাজিক ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিসহ পরিবেশগত সচেতনতাকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতা বাড়াচ্ছে। দারিদ্র্যের কারণে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায় না। তারা শিক্ষা গ্রহণের কোনো একটি পর্যায়ে ঝরে পড়ে। দরিদ্র অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ ঝরে পড়া রোধ করতে হবে।

জীবনে বড় হওয়ার অদম্য উৎসাহ নিয়ে যারা দারিদ্র্যকে জয় করে ভবিষ্যতের অনিশ্চিত পথ পাড়ি দিতে সংকল্প বদ্ধ তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে ব্যাংকের উদ্যোগ অনন্য ভূমিকা নিতে পারে।